দেশে শিক্ষার হাল অথবা শিক্ষার বিষয় নিয়ে এই লেখা নয়। সেসব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই বলে গেছেন। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে উদাহরণও দিয়েছিলেন। যদিও খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। তার উপর গত কয়েক দশক জুড়ে পাড়া-মহল্লায়, হাটে-বাজারে, শহর-বন্দরের আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল।
জার্মান ভাষায় ‘ কিন্ডার গার্টেন’ কথাটার মানে হল ‘শিশুদের (খেলার জন্য) বাগান’। খেলা দূরে থাক, বই-খাতার ভারেই এখন শিশুদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গোটা ছয়-সাত ক্লাসের বই, হোমওয়ার্কের খাতা, ক্লাস ওয়ার্কের খাতা, পেন- পেন্সিল- নোটবুক- জলের বোতল- টিফিন বাক্স নিয়ে ন্যূনতম আট থেকে দশ কেজি ওজন।
কখনো কখনো একটা ক্লাসের টীচার ছুটি নিলে তাঁর পরিবর্তী টিচারের বইখাতাও ছাত্রছাত্রীদের আগাম বয়ে নিয়ে যেতে হয়। অস্থিবিশেষজ্ঞ ভারী ওজন বহনের বিষয়ে দুই ধরণের সমস্যার কথা বলেন- প্রথমতঃ, তাৎক্ষণিক সমস্যা। পিঠে অস্বস্তি, যন্ত্রণা হয়। কোমর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে। শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে যায়।
যার ফলে পিঠের মাংসপেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্বিতীয়তঃ দীর্ঘকালীন সমস্যা। খুব ভারী ওজনকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যালেন্স করতে গিয়ে মাথা সামনে ঝুঁকে যায় ও মেরুদণ্ড বেঁকে যায় । মেরুদণ্ডের ডিস্কের উচ্চতা কমে যায়। হাড়ের ক্ষয় হয়। বেশিদিন এভাবে চললে শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে থাকে।
এ তো গেলো মেরুদণ্ডের গল্প। কাঁধের উপরেও খারাপ প্রভাব আছে। স্কুল ব্যাগের ওজনের ৬৫% পড়ে কাঁধে। ব্যাগের স্ট্র্যাপ কাঁধের উপর চেপে বসে মাংস পেশীগুলোর ক্ষতি করে। ঘাড়ে ব্যথা, মাথায় যন্ত্রণা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, শরীরের দশ শতাংশের চেয়ে বেশী ওজন বহন করলে মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
একটি ১২ বছর বয়সী বালক বা বালিকার ওজন ৪০ কেজি হলে তার স্কুলব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন হওয়া উচিত ৪ কেজি। তবে এই সব আইনকানুন কাগজে কলমেই রয়ে গেছে। এর কারণ আর কিছুই নয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব।