শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ভগ্নিপতির হাতে ছুরিকাহত হয়ে আহত শ্যালক শামিম

মাসুদ রায়হান:   |   মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভগ্নিপতির হাতে ছুরিকাহত হয়ে আহত শ্যালক শামিম
১৭

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামে ভগ্নিপতির হাতে ছুরিকাহত হয়ে গুরুত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে শ্যালক , ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ১৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে।

ঘটনার বিবরনে জানাযায় উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামের সিরিজ মোল্লার মেয়ে মারুফার বিয়ে হয় উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামে, মারুফা বলেন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া কালীন আমার বাবা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বিয়ে দেয়। আমি স্বামী সংসার কি সেটা বুঝতাম না, বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসারে সব সময় অশান্তি লেগে থাকতো প্রতিনিয়ত আমি নির্যাতনের শিকার হয়ে সংসার করে যাচ্ছিলাম।

ক্রমশ আমি মানসিক ভাবে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগলাম এমন পরিস্থিতিতে শ্বশুর বাড়ির পাশে বাবর আলী সরদারের ছেলে মিন্টুর সাথে আমার সংসারের সমস্যা নিয়ে কথা বার্তা হতে হতে এক পর্যায়ে মিন্টু আমাকে সুখের স্বপ্ন দেখায় আমি ভালো মন্দ বোঝার আগেই মিন্টুর প্রেমে পড়ে যায় এভাবে চলতে থাকে এক সময়ে আমার স্বামী সংসারের মধ্যে নির্যাতনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

আমার নির্যাতন দেখে মিন্টু আমাকে বলে চলো আমরা দুজনে পালিয়ে যায় এবং বিয়ে করি যেমন কথা তেমন কাজ আমরা পালিয়ে দুজনেই বিয়ে করি, মিন্টুর প্রথম বউ থাকাতে আমরা ন পাড়া বাসা ভাড়া করে থাকতাম সেখানে আমরা দুজনেই কাজ করে সংসার চালাতাম, মাঝে মধ্যে মিন্টু তার প্রথম স্ত্রীর কাছে যেত বা তাদের সংসার খরচও দিত তাতে আমার কোন আপত্তি ছিল না, কিন্তু মিন্টু সপ্তাহে দুই এক দিন কাজ করতো আর বাকি দিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাটাতো যার ফলে সংসার চালাতে হিম সিম খেতে হতো আমার, এমন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর চলে আমাদের সংসার এক পর্যায়ে সংসারে অভাবের কারণে আমি বাপের বাড়ি বিপ্রকোনা গ্রামে চলে আসি আজ তিন মাস মতো।

আমি চলে আসার পর মিন্টু আমাকে বার বার ফোন দিলে মারুফা বলে তুমি আমার স্বামী আর সব স্ত্রী চায় তার স্বামী কে নিয়ে সংসার করতে কিন্তু তুমি তো কোনদিন পরিবর্তন হলেনা যদি পরিবর্তন হয়ে ভালো মানুষ হয়ে স্বামী হতো পারো সে দিন আমাকে বলো আমি সে সময় পর্যন্ত তোমার জন্য আমার বাপের বাড়ি অপেক্ষা করবো।

এর পর থেকে ঘটনার দিন পর্যন্ত দেড় দুই মাস কোন রকম যোগাযোগ রাখেনা মারুফা। হটাৎ ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামে সিরিজ মোল্লা মারুফার বাপের বাড়ি এসে হাজির হয় মিন্টু। মারুফা মিন্টু কথোপকথন শুরু হয় এক পর্যায়ে মিন্টু উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে ও মারুফার উপর চড়াও হয়ে মারমুখী হলে বাড়িতে থাকা মারুফার ভাই শামিম ছুটে যেয়ে তাদের কে শান্ত করার জন্য চেষ্টা করে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্টু তার হাতে থাকা চাকু বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শামিমের গলায় আঘাত করে ও তাকে হত্যার উদ্দেশ্য বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।

শামিম ও তার বোন মারুফার আত্মচিতকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে মিন্টুর হাত থেকে তাদের কে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মনিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় ও মিন্টুকে স্থানীয় লোকজন ধরে বেধে রেখে নেহাল পুর পুলিশ ফাড়িতে খবর দিলে ফাড়ি পুলিশ মিন্টুকে তাদের হেফাজাতে নিয়ে যায়। বর্তমানে শামিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান আহত শামিমের বোন মারুফা।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com