শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

খাগড়াছড়ির শান্ত এক বৌদ্ধ বিহার

এস এম নওশের:   |   শুক্রবার, ০১ নভেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

খাগড়াছড়ির শান্ত এক বৌদ্ধ বিহার
১৩

তখন ২০১১ সাল।সুমন ভাই( আমার বাচ্চাদের ছোট মামা) থাকতেন খাগরাছরি।তিনি সেখানে রবির এরিয়া ম্যানেজার ছিলেন।উনার আমন্ত্রনে ঢাকা থেকে সারা রাত বাস জার্নি করে গ্রীস্মের এক ভোর বেলা গিয়ে হাজির হলাম খাগরা ছরি।সেটাই ছিল আমার প্রথম কোন পার্বত্য শহর ভ্রমন।উনার বাসায় ব্যাগ রেখে ফ্রেস টেশ হয়েই উনাকে নিয়ে গেলাম দিঘি নালা।

ইচ্ছে ছিল সাজেক যাবার।তখন সাজেক যাউয়া এত সহজ ছিল না।দিঘিনালা তে উনার রবির ডিলার নিষেধ করল সাজেক যেতে।কারন মাত্র দুজনে সাজেক যাউয়া নিরাপদ নয় বলল তারা।সুমন ভাই কে ভয় দেখাল সেখান কার লোকেরা কুকুরের মাংস খাইয়ে দেবে।ব্যাস সুমন ভাই এবাউট টার্ন দিলেন।এর আগে অবশ্য আমরা এক্টা ফলের বাগান ভিজিট করলাম।স্থানিয় দের কাছে তুষারবাবুর বাগান নামে পরিচিত।সৌভাগ্যক্রমে খোদ তুষারবাবু কেই পেয়ে গেলাম।উনি নিজেই উনার বাগান ঘুরে দেখালেন।খাউয়ালেন উনার বাগানের কাচা মিঠা আম জাম্রুল পেয়ারা।লাল জাম্রুল প্রথম আমি উনার বাগানেই খেয়েছিলাম।এরপর কিছু ফল কিনে রউনা দিলাম খাগ্রাছরি।মিশন সাজেক ক্যান্সেল।

পরে সেই মিশন পুরা করলাম ২০১৮ তে এসে একটি গ্রুপের সাথে।সে আরেক কাহিনি।।খাগরা ছরি যখন ফিরে এলাম তখন কেবল দুপুর।বেড়াতে এসে শুয়ে বসে টাইম পাস আমার অসহ্য।সুমন ভাই কে বল্লাম চলেন পান ছরি তে যাই।তার আগে অবিশ্য একটা কাজ করলাম।তুষার বাবুর বাগান থেকে কেনা ফল তিন ভাগ করে এক ভাগ সুমন ভাইর জন্যে রাখলাম।আর এক ভাগ আমার বাসায় আর এক ভাগ আমার স্ত্রীর বাপের বাড়ি কুরিয়ার করলাম।বাগানের তাজা ফল ওদের ছাড়া একা খেতে ইচ্ছে করছিল না।

পান ছরি তখন হলার টাইপের বাহন চলত।লক্কর ঝক্কর টাইপ।ভাড়া তখন ছিল ত্রিশ টাকা। গাড়ি পাহাড়ি রাস্তায় হেলতে দুলতে চলছে।এর মাঝে এল কাল বৈশাখি ঝড়।আমি ত ভীশন এক্সাইটেড।ঝড়ের মাঝে পা্হাড়ি রাস্তায় চলার ঠ্রিল অন্য রকম।গুরুম গুরুম বাজ পড়ছে।বাতাসে দমকায় গাড়ি যেন উড়িয়ে নিয়ে যাবে।তারপর শুরু হল বৃস্টি।গাড়ির উপরে ছিল ফুটা ত্রিপল।পানি এসে ভিজিয়ে দিল আমাদের।তীব্র বৃস্টির কারনে গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি এক জায়গায় সাইড করে রেখে দিল।কারন তার গাড়িতে উইন্ড পাইপ না থাকায় উইনষিল্ড গ্লাস ঘোলা হয়ে কিছু দেখা যাচ্ছিলনা।এদিকে আমরা যারা ভেতরে গাদা গাদি করে বসেছিলাম তাদের অবস্থা কেরোসিন।এক সময় বৃস্টি ধরে এল।সুয্যি মামা হাসি দিল।গাড়ি চলতে শুরু করল।শেষ পর্যন্ত এলাম পান ছরি বাজার।এখানে
আদি বাসি বেশি বাংগালি কম।বাজারে হরেক রকম পা্হারি সব্জি দেখলাম। বাশের খড়ল শুটকি গুইসাপ পাহারি ফল আর শুকর বিক্রি হতে দেখলাম।

এরপর চল্লাম শান্তিপুরের অরন্যকুটির দেখতে।এখানে যেতে আমাদের বাইক রিজার্ভ নিতে হল।অন্যকোন বাহন এখানে চলে না।পান ছরি থেকে পাচ ছয় কিমি দুরে বৌদ্ধ দের এই আশ্রম।এই আশ্রমের অন্যতম আকর্শন হল পাচ তলা সমান উচু পদ্মাসনে বসা বুদ্ধ মুর্তি।এটি নির্মান করা হয় ১৯৯৯ সালে।এর আগে আমি বড় মুর্তি দেখেছিলাম ব্রাম্মন বাড়িয়া তে কাল ভৈরব মন্দিরে।সেটি আনুমানিক ২০/২৫ ফুট উচু হতে পারে।আশ্রমের সেবায়েত আমাদের উতসাহ নিয়ে ঘুরে দেখাল যখন শুনল আমরা ঢাকা থেকে এসেছি।উনি জানালেন উচ্চতার দিক থেকে এটি হল এশিয়ার দ্বিতিয় বৃহত্তম বুদ্ধ মুর্তি।। প্রথম টি আছে ভুটানে।এর কারিগর আনা হয়েছিল মিয়ান্মার থেকে।বাংলাদেশে একশত ফুট লম্বা বুদ্ধ মুর্তি আছে রামু তে।সেটি বুদ্ধেরশায়িত মুর্তি। আশ্রমের শান্ত সৌম্য পরিবেশ আমার মনে করিয়ে দিল নালন্দা তক্ষশিলা পাহারপুর শালবন বিহারের কথা।অনুমান করলাম সেগুলোর পরিবেশ ও বুঝি এমন ই ছিল।এই জায়গা টা বেশ দুর্গম এলাকায়।এখান থেকে অল্প কিছু এগুলেই দুদুক ছরা মিজোরাম সীমান্ত।আমি অবাক হয়ে ভাবছিলস্ম এই দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকায় তারা কীভাবে এত বড় বুদ্ধ প্রতিমা নির্মান করল।আশ্রম সেবায়েত জানালেন এটি তৈরিতে ব্যায় হয়েছিল প্রায় পাচ কোটি টাকা।যার বড় একটা অনুদান এসেছে থাইলান্ড থেকে।

এবার ফেরার পালা।তখন শেষ বিকেলের স্বর্নালি আভা তৈরি করেছিল এক অপার্থিব পরিবেশ।কানে বাজ ছিল অম মনি পদ্ম হুম।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com