শফিকুল ইসলাম বাদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : | মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | ৪৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চিকিৎসা সেবায় নাক কানের সবছেয়ে খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইউসুফ ফকিরের বিরোদ্ধে ভূল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় চরম অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন একজন প্রবীন সাংবাদিকের শিশু কন্যা।

নামকারা ডাক্তার খ্যত, ভুচিকিৎসার খেসারাত দিতে হচ্ছে আমার মতো অসংখ্য হতভাগা পিতা মাতা আজ
১১ এপ্রিল’২৫ ইং শুক্রবার জেলা শহরের মর্ডান হসপিটালের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ আবু ইউসুফ ফকিরের চেম্বারে নিয়ে যান সাংবাদিক হারুনর রশিদের তৃতীয় কন্যা নুসরাত জাহান(৯) (নুসবা) কে। নুসবার নাকের মাংসবৃদ্ধি পাওয়ায় সার্জারীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলায় ১১ এপ্রিল নুসবার সার্জারী করা হয় পাইকপাড়া ইনসাফ হসপিটালে। অপারেশনের পর অপারেশন সাকসেস ডিক্লেয়ার করে ডাঃ চলে যান ঢাকায়।
সার্জারী পরবর্তী একটা রোগীর সার্বিক তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব ডাক্তার-নার্সদের। ডিউটি ডাক্তার তার সহকারীদের নিয়ে সাংবাদিকের শিশু কন্যা নুসবার গলার ভিতরে ব্যান্ডেজ আটকে রেখে তাকে ঔষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে হাসপাতালে যে যার মত সময় কাটাতে থাকে।
এদিকে সাংবাদিক হারুনর রশিদ বলেন, ” আমি দুর্ভাগা সেই পিতা, মেয়ের কোথায় সমস্যা বুঝতে না পেরে বারবার মেয়েকে ঔষধ খাওয়াতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হচ্ছিলাম। কোনভাবেই মেয়েকে ঔষধ খাওয়ানো যাচ্ছিলনা। কেন খাওয়ানো যাচ্ছিলনা তাও কেউ বুঝতে এবং বলতে পারছিলনা। অবশেষে রাত ১১ টায় অন্য ডিউটি ডাক্তার এসে আমার মেয়ের অবস্থা দেখে বলেন, এভাবে কি ওষুধ খাওয়ানো যায়। যেহেতু তার কণ্ঠনালীর ভিতরে বেন্ডেজ রয়েছে।
এদিকে আমার মেয়ে ভীত সন্ত্রস্থ ও অবচেতন অবস্থায় ৫ ঘন্টা বিছানায় কাতরাচ্ছিল। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আমি ও আমার পরিবার ঢাকায় ডাক্তারের কাছে ফোন করে বিস্তারিত জানালে হুঁশ ফিরে সার্জারীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইউসুফ ফকিরের। কণ্ঠনালীর মত সংবেদনশীল জায়গায় ছুরি চালানোর ৫ ঘন্টা পর কন্ঠনালীতে গজ ব্যান্ডেজ রেখে দিয়ে ডাক্তারের প্রেশক্রিপশনে মেডিসিন খাওয়ানোর চেস্টা মানে একটা শিশুকন্যাকে একপ্রকার সবাই জোর করেই যেন হত্যা চেষ্ঠা করা হচ্ছিল। পরে নতুন ডিউটি ডাক্তার আসে রাত এগারোটায়, তখন সে ডিউটি ডক্টর সবার অগোচরে নুসবার কন্ঠনালী থেকে ব্যান্ডেজ খুলে দ্রুত চলে যায়।”
একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার একটি নিষ্পাপ শিশু কণ্যার সার্জারীর মত সংবেদনশীল চিকিৎসা নিয়ে কেন এত উদাসীনতা ও অবহেলা!সাংবাদিক হারুন সচেতন মহলের কাছে প্রশ্ন রাখেন, “এখনো নুসবার পরিস্থিতি ভাল নয়, মুলত অপারেশনের পর গলায় ব্যান্ডেজ রেখে তাকে মেডিসিন খাওয়ানোর চেস্টায় তার উপর নেতিবাচক প্রভাবও হতে পারে, তিনি বলেন, “আমার মেয়ের যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে তার জন্য সার্বিকভাবে ডাঃ ইউসুফ ফকির ও হসপিটাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। কারণ তাদের অসাবধানতায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে।”
এ ব্যাপারে ডাক্তার ইউসুপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অপারেশন ও পরবর্তীতে পরিচর্যায় নিয়োজিত ডিউটি ডাক্তার এবং নার্স গনের অবহেলা কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ। এছাড়া তিনি আর কোন সদোত্তর দেননি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com