এস এম নওশের | বুধবার, ১৪ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ৪০৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভারতের ইতিহাসে এমন এক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যাঁর নেতৃত্বে দেশের বুকে ঘটে গেল এক ভয়াল সন্ত্রাসবাদী হামলা, আর তিনি—নির্লিপ্ত, নির্বিকার, প্রায় নিঃশব্দ। কী করলেন না তিনি? ১. সংসদে গেলেন না—যেন গণতন্ত্রের মন্দিরে উপস্থিত হওয়া তাঁর মর্যাদার নিচে। ২. সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিলেন না—কারণ তাঁর কাছে মতভেদ মানেই শত্রুতা, ঐক্য নয়। ৩. একটিও প্রেস কনফারেন্স করলেন না—জনতার প্রশ্নের সামনে দাঁড়ানোর সাহস, আজও যাঁর নেই। ৪. কাশ্মীরে পা রাখলেন না—যেখানে দেশের সন্তানদের রক্ত মাটিতে গড়িয়ে পড়েছে। ৫. পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলেননি—না প্রতিবাদ জানালেন, না ন্যায়ের দাবি তুললেন। ৬. যুদ্ধবিরতির সময় ধরা পড়া বিএসএফ জওয়ান পি.কে. সিং-এর মুক্তির দাবি করলেন না—যেন এক সৈনিকের প্রাণ তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। ৭. পাহালগাম হামলার চার সন্ত্রাসীর হস্তান্তরের কথা তুললেন না—কারণ তাঁর আসল যুদ্ধ তো সীমান্তে নয়, নির্বাচনী ময়দানে। ৮. এবং স্বাভাবিকভাবেই, তিনি নিজে ফৌজি পোশাকে সীমান্তে যাননি—সেই ছবি তোলার ফাঁকা ভঙ্গি আজও ক্যামেরায় বন্দি, বাস্তবে নয়।
তবে কী করলেন তিনি? ১. ছুটে গেলেন বিহারে—নির্বাচনী ভাষণে জনসভায় জয়ধ্বনি শুনতেই যেন তাঁর প্রাণ জেগে ওঠে। ২. আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে জানালেন দুঃখ—এক সার্বভৌম দেশের নেতা হয়ে পরনির্ভরতার করুণ চিত্র আঁকলেন। ৩. সব থেমে যাওয়ার পর সেনা ছাউনিতে গেলেন—না, সহমর্মিতা নয়, ক্যামেরার জন্য। ৪. টেলিপ্রম্পটার থেকে চোখ না সরিয়ে জাতির উদ্দেশে দিলেন এক আবেগহীন বিবৃতি—একটি পাঠ, একটি পারফরম্যান্স। ৫. তাঁর আইটি বাহিনী, দলীয় নেতা-মন্ত্রীরা নেমে পড়ল বিক্রম মিশ্রী ও সফিয়া কুরাইশির মতো মানুষদের চরিত্র হননে—যেন সমালোচনা মানেই শত্রুতা, আর বিরোধ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা। তবুও, একটা ব্যাপারে তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়—তিনি একটিবারের জন্যও “ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ” শব্দবন্ধটি উচ্চারণ করেননি।
হয়তো তিনি বোঝেন, সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম নেই। দুর্ভাগ্য, এই মানবতা তিনি তাঁর অন্ধ অনুসারীদের মধ্যে সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই প্রশ্ন ওঠে—একটা জাতীয় বিপর্যয়ের সময়, যিনি যুদ্ধ করেন না, প্রতিশোধ চান না, প্রশ্নের মুখে দাঁড়ান না, জনগণের পাশে থাকেন না—তাঁকে কি সত্যিই রাষ্ট্রনায়ক বলা যায়? নাকি তিনি কেবল একজন অভ্যস্ত মডেল, যাঁর রাজনীতি ক্যামেরার লেন্সে শুরু, ক্যামেরার ফ্ল্যাশেই শেষ?
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com