আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ | মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধাসহ দেশের ২৮টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ৬ জুন থেকে বৃষ্টি কমার কারণে অনুভূত হচ্ছে ভ্যাপসা গরম। এই গরমে ভোগান্তিতে পড়ছে গাইবান্ধার মানুষ। সব চেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বৃদ্ধসহ শিশুরা। একটু প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটছেন গাছের ছায়ায়, পুকুরপাড়ে, ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলোতে।
সূর্যের প্রখর তাপে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরিভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি না হওয়া আর প্রচন্ড রোদে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা শ্রমিক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সামান্য স্বস্তি ও একটু শীতল পরশের জন্য সবাই ছুটছে গাছের ছায়াতলে। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা ছুটছে বিভিন্ন শরবত ও পানীয়ের দোকানে। কোথাও কোথাও পুকুরে নেমে পড়ছে বৃদ্ধসহ শিশুরাও। তীব্র গরমের মধ্যে বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেছে। রাস্তায় বের হলে আগুনের হল্কা এসে গায়ে লাগছে। অতিরিক্ত গরমের কারনে প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না।
রিকশাচালক মো. মাইনুর মিয়া বলেন, সূর্যের অনেক তাপ। রোদে সারা শরীর পুড়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টার পর পর্যন্ত গরম থাকছে। মনে হয় যেন চামড়া জ্বলে যাচ্ছে। শরীর ঘেমে যায়। শরীর দুর্বল হয়ে আসে। রিক্সা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। ঘরে থাকতে পারিনা। জীবন জীবিকার তাগিদে এরপরও ছুটে চলা।
শহরের পলাশ পাড়া এলাকার বাসিন্দা গাজী আরমান বলেন, বাতাসে যেন আগুন উড়ছে। প্রচণ্ড গরম।
বিদ্যুৎ থাকলেও প্রশান্তি মিলছে না। এই গরমে বাইরে যেমন বের হওয়া যাচ্ছে না, তেমনই ঘরেও অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমির সামনে, পুরাতন ব্রিজ, নতুন বাজার, পূর্বপাড়া, হকার্স মার্কেট, আসাদুজ্জামান স্কুলের সামনেসহ বিভিন্ন মোড়ে ভ্যানগাড়িতে করে তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে দেখা গেছে ক্রেতাদের বেশ চাহিদা। আবার শহরের পৌরপার্ক, ডিসি অফিস, কাচারি বাজার, জেলা পরিষদ চত্বর, ট্রাফিক মোড়, ডিবি রোড, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানও বসেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শরবত। জেলার সাত উপজেলায় শতাধিক ভাসমান শরবতের দোকান রয়েছে।
পূর্বপাড়া এলাকায় তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুর রহিম মিয়া (৪৪) বলেন, তাল যখন কাঁচা থাকে, তখন বাজারে এটা পানি তাল বা তালের শাঁস হিসেবেই বিক্রি হয়। প্রতিটি কাঁচা তাল ১০ থেকে ২০ টাকা ও তালের শাঁস প্রতিটি ৫ টাকা পিস বিক্রি হয়।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা লিমন মিয়া বলেন, কর্মব্যস্ততা শেষ করে বাসায় ফিরে কোথায় থাকব?গরমে কোথাও স্বস্তি মিলছে না।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে পানি স্বল্পতাসহ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তীব্র তাপদাহে খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাহিরে বের না হওয়া ভালো।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com