(মৌলভাবাজার) প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৮৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত থেকে যাওয়া স্বাস্থ্য সহকারীরা এবার আর চুপ করে বসে নেই। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ও ছয় দফা দাবির বাস্তবায়নের দাবিতে দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন, কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে যে স্বাস্থ্য সহকারীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন—আজ তারাই পেশাগত মর্যাদা ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত।
অ্যাসোসিয়েশনের উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যাম কান্ত সিংহ বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে দেশে প্রায় ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী কাজ করছেন। তারা গর্ভবতী নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকাদান কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমসহ সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু নিয়োগবিধি, টেকনিক্যাল মর্যাদা ও গ্রেড উন্নীতকরণে তাদের প্রতি চরম অবহেলা চলে আসছে।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম আহমদ, সহ-সভাপতি মইন উদ্দিন খাঁন, উপদেষ্টা আনজুমান আরা রুবি, সৈয়দ মিজানুর রহমান, আব্দুল মুমিন, অনিরুদ্ধ রায় ও প্রমোদ চৌধুরী প্রমুখ।
সহ-সভাপতি মইন উদ্দিন খাঁনের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন—
“স্বাস্থ্য সহকারীরা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে গিয়ে মানুষকে প্রতিষেধক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন করে তুলছেন। অথচ আজও তারা বঞ্চিত টেকনিক্যাল স্বীকৃতি থেকে, বঞ্চিত ন্যায্য বেতন স্কেল থেকে। আমরা চাই, আমাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। আমাদের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়—এটা আমাদের অধিকার। সময় এসেছে এই অবমূল্যায়নের অবসান ঘটানোর।”
বক্তারা আরও বলেন, ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক/সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতা সংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান।
২. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৩. স্বীকৃত টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান।
৪. পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উচ্চতর গ্রেডে উন্নয়ন।
৫. সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে নীতিনির্ধারণ।
৬. পেশাগত নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
তারা জানান, বিভিন্ন সময় আন্দোলনের মাধ্যমে এসব দাবি জানানো হলেও সেগুলো প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। অথচ মাঠপর্যায়ের এই কর্মীরাই সরকারের স্বাস্থ্য কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখন সময় এসেছে স্বাস্থ্য সহকারীদের বাস্তব সমস্যাগুলো আমলে নেওয়ার। বারবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—এবার চাই বাস্তব পদক্ষেপ।”
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একটাই আহ্বান— “সম্মান চাই, মর্যাদা চাই, স্বাস্থ্য সহকারীর ন্যায্য অধিকার চাই।”
উল্লেখ্য, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীদের এই ছয় দফা দীর্ঘদিন ধরে চলমান দাবি, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com