শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

অভাবকে জয় করে জিপিএ-৫ পাওয়া দারিদ্রতা যেন থামাতে পারেনি প্রমা রাণী দাসকে

শফিকুল ইসলাম বাদল,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :   |   শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১০৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অভাবকে জয় করে জিপিএ-৫ পাওয়া দারিদ্রতা যেন থামাতে পারেনি প্রমা রাণী দাসকে
১৭

ঘর বলতে টিনের চালা, বাবা দিনমজুর, মা কাথা সেলাই করে ও পুঁতির ব্যাগ তৈরি করে। যেখানে তিনবেলা খাবার জোটাতে কষ্ট সেখানে, পড়ার খরচ তো দূরের কথা। তবুও দারিদ্র্যতা যেন থামাতে পারেনি প্রমা রাণী দাসকে। সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই অদম্য শিক্ষার্থী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুহাতা গ্রামের ভুলাচং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রমা। নেই কোচিং, নেই প্রাইভেট শিক্ষক, তবুও নিজের চেষ্টায় একেবারে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে সে।

প্রমার বাবা শিবলু কর্মকার বলেন, “মেয়েটার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। পেটে ভাত না থাকলেও বই ছাড়া থাকতে পারত না। আমি যতটুকু পেরেছি, করেছি। ধার-দেনা করেও চেষ্টা করেছি মেয়েটার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে। বাকিটা ভগবানের রহমত।মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে হবে এই আক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রমার বাবা শিবলু বলেন, মেয়ে প্রমা ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু ডাক্তার হওয়ার মাঝে একটাই বাঁধা দারিদ্রতা। আমার যেই অবস্থা মেয়েটা সামনে পড়ানোটা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ভাবছি পড়ালেখা বন্ধ করে দিবো।

প্রমার স্বপ্ন একদিন ডাক্তার হয়ে গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ানোর। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে বড় বাধা দারিদ্র্যতা। কলেজে ভর্তি, বই, যাতায়াত—সবকিছুতেই এখন অর্থ সংকট।প্রমা বলেন, বাবা এখন পড়ালেখা চালানোর অবস্থায় নেয়। মা-বাবা ও তিন বোন মিলে একটা ঘরেই থাকতে হয়। বাবার পাশাপাশি মাও কথা সেলাই ও পুঁতির ব্যাগ বানিয়ে সংসার চালায়। নিজের পড়ালেখা চালাতে ৯ম শ্রেণী থেকে টিউশনী করি। দুটি টিউশন করিয়ে ৬০০ টাকা পাই। সেটা দিয়ে নিজের পড়াশোনা আগাতে কাজে লাগিয়েছি। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রমা বলেন, আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু কিভাবে সম্ভব হবে জানি না। ভগবানই পারবেন আমাকে সহযোগিতা করতে। বাবা আর পড়ালেখা চালাতে পারবে না। কারণ কলেজের পড়ালেখায় অনেক খরচ। হতভাগা দারিদ্রতার কারণে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রাণী সাহা আজকের সংবাদকে বলেন, “প্রমা সত্যিই অনুকরণীয়। কঠিন বাস্তবতায় থেকেও এমন ফলাফল বিরল। ভোলাচং উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে প্রমা একজন। সে যদি সহযোগিতা পায়, মেয়েটি অনেক দূর যেতে পারবে।” আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির সাথে কথা বলব যে বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে মেয়েটির পাশে দাড়ানো যায় কি না। তাছাড়া আমি ব্যাক্তিগতভাবে প্রমার পাশে দাড়াব। সমাজের দায়িত্বশীল ও সম্ভ্রান্তদের প্রতি আমার উদার্ত আহবান থাকবে প্রমা পাশে দাঁড়িনোর।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com