আব্দুস সালাম মোল্লা | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়েছে, আরও অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ও বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও প্রায় ২০০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
নদীভাঙনের শিকার ৯০ বছর বয়সী ইউনুছ শেখ বলেন, “জীবনে সাতবার ঘর তুলেছি, সাতবারই পদ্মা নিয়ে গেছে। এই বয়সে এসে আর নতুন করে ঘর করার শক্তি নেই। এখন অন্যের আশ্রয়ে আছি। জানি না, জীবনের শেষ সময় নিজের ঘরে কাটাতে পারব কি না।”
চার মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটছে তাঁর। চোখের সামনে নিজের বসতভিটা, আবাদি জমি ও জীবনের সঞ্চয় নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙন যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঐতিহ্যবাহী পিয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রাম চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ত্রাণ নয়, নদীভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক।
আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, “ভাঙনের ভয়াবহতা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
সদরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।”
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, “পদ্মার ভাঙন পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বছরের পর বছর পদ্মার ভয়াল থাবায় সর্বস্ব হারানো মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো রক্ষা পাবে অবশিষ্ট বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপদ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com