চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা থেকে মাসোহারা আদায় এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক সদস্য ও বিভিন্ন মহল এসব অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, আতিকুর রহমান ইপিজেড থানায় যোগদানের পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির চেয়ে অবনতিই বেশি হয়েছে। ঘনিষ্ঠ ও নিজ জেলার কর্মকর্তাদের ডিউটি ও সুযোগ-সুবিধায় বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় থানার অফিসারদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সিমেন্ট ক্রসিং, বন্দরটিলা, ব্যারিস্টার কলেজ, মাইলের মাথা, সি-ম্যাস হোস্টেল ও সল্টগোলা এলাকায় দিনেদুপুরে মোবাইল ছিনতাই, চুরি এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়ক ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (ফ্লাইওভার) ওপরে রাতে মোবাইল ছিনতাই ও চুরি হচ্ছে। রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক কেবলও চুরি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্যারিস্টার কলেজ থেকে মাইলের মাথা পর্যন্ত সড়কের পূর্ব পাশে সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৩টার মধ্যে আলাদা আলাদা সময়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তিন তাসের আসর বসায়। তারা সাধারণ পথচারী ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়।
সড়কের স্থায়ী ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যারিস্টার কলেজের প্রধান সড়কসংলগ্ন এস এ পরিবহনের পাঁচতলা ফরিদা ম্যানশন ও ফরিদা ভবনের পাশের গলিতে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা চলছে। সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক বাসাবাড়ির মোটর ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় চট্টগ্রামের দুই ইপিজেড এলাকার জুট ব্যবসায়ীদের থেকে মাসে ১৫-২০ লক্ষ টাকা মাসেহারা আদায়, এছাড়াও আকমল আলী বেড়িবাঁধ দিয়ে অবৈধ পণ্য,কালো তেল পাচারকারী, কারবারিদের থেকেও মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক
কয়েকটি ঘটনার বিবরণ:
চৌধুরী মার্কেটের সামনে ক্ষুদ্র চা দোকানদার সাইফুলের লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় ফ্রি-পোর্ট সৈকত মার্কেটের (মধুবন মিষ্টির দোকানের) ছাদে উঠে ৩-৪ জনের একটি চোরচক্র ইন্টারনেট ও বিদ্যুতের তার চুরির চেষ্টা করে। সৈকত মার্কেট ও গাজী কমপ্লেক্সের দারোয়ান বাবু ও তাঁর ভাই তা দেখে ফেললে তাঁরা ধরতে এগিয়ে যান। তখন চোরেরা চাকু দেখিয়ে ভয় দেখায় এবং ইটপাটকেল ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং ,আকমল আলী এলাকার সাওয়াদ বিল্ডিংয়ের ইনচার্জ রহমত জানান, সংস্কারাধীন ওই ভবন থেকে রাতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ওয়্যারিং তার চুরি হয়েছে।
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
থানায় ‘কুমিল্লার টিম’ নিয়ে অভিযোগ:
পুলিশ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওসি আতিকুর রহমান যোগদানের পর থানার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ডিউটি বণ্টনে নিজ জেলার বেশ কয়েকজন অফিসারকে বিশেষ সুবিধা ও প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দেওয়া তালিকায় রয়েছেন:
এসআই শাহিন মিয়া
এসআই মামুন
এএসআই আবু সাঈদ চৌধুরী
এএসআই আব্দুর রহমান পাটোয়ারী
এএসআই পলাশ কুমার হাজারী
ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল ওদুদ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন।
তদন্ত কর্মকর্তার শূন্য পদ নিয়ে প্রশ্ন
থানার তদন্ত কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর সেখানে নতুন তদন্ত ওসি পদায়নে ওসি আতিকুর রহমানের অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এসআই শাহিন মিয়াকে সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে, সেকেন্ড অফিসারের পাশাপাশি তিনি তদন্ত ওসির দায়িত্বও পালন করছেন।
বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অফিসারদের বদলির আদেশ এলেও কথিত প্রভাব অথবা থানার লোকবল সংকটের অজুহাতে তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়। যাঁরা ওসির সুনজরে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
বন্দর জোনের বদলি আদেশ অনুযায়ী:
১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ২২৮/২৬ নম্বর আদেশে এএসআই আবু সাঈদ চৌধুরীকে পতেঙ্গা থানায় বদলি করা হয়।
স্মারক নং সিএমপি/আরও(সিআরও)/বদলী/আদেশ ২৭৭/১(১২), তারিখ ১১/০১/২০২৫ অনুযায়ী এএসআই আব্দুর রহমান পাটোয়ারীকে উত্তর বিভাগে বদলি করা হয়।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের ৪৩/২৬ নম্বর আদেশে এসআই কামরুজ্জামানকে ইপিজেড থানা থেকে পতেঙ্গা মডেল থানায় বদলি করা হয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ফোনে তো সব বলা সম্ভব নয়,থানা আসেন এলাকায় খোঁজ নেন, আপনারা সাংবাদিকরা তো অনেক নিউজ করলেন, আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিযোগ দিয়েছেন, উনারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com