মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে বিজ্ঞপ্তির তারিখ ৬ অক্টোবর দেখানো হলেও, তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার করা হয় একদম শেষ দিন অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর দুপুরে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে তড়িঘড়ি করে পোস্ট এডিট করে আবেদনের সময়সীমা দুই দিন বাড়িয়ে ২৮ অক্টোবর করা হয়।
এই ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও ছাত্র প্রতিনিধিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২১ দিনের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শুরুর তারিখ ছিল গত ৬ অক্টোবর এবং ২৬ অক্টোবর ছিল শেষ সময়। অথচ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিজ্ঞপ্তিটি সাধারণ যুবকদের নজরে না এনে, খোদ ২৬ অক্টোবর শেষ দিনেই তা উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করে এর প্রতিবাদ জানান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ রাজিব নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও পূর্বনির্ধারিত সিলেকশনের মাধ্যমে লোক ঠকানোর গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
তিনি তার পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উপজেলা প্রশাসন কি মজা করে নাকি ছেলেমেয়েদের সাথে? ২৬ তারিখ আবেদনের শেষ তারিখ, আর আজকে ওনারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেন।” প্রশাসনের পোস্ট এডিট বা ডিলিট করার সংস্কৃতিকে ‘স্বৈরাচার আমলের নীতি’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে অনীহা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা উচিত, যাতে অন্য বেকার যুবকরা সুযোগ পায়।
এছাড়া, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি এবং কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন ও তীব্র সমালোচনার মুখে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন তাদের ফেসবুক পোস্টটি এডিট (সম্পাদনা) করে। ফেসবুকের Edit History-তেও আগের মিডিয়া সরিয়ে নতুন মিডিয়া যুক্ত করার প্রমাণ মিলেছে। সংশোধিত পোস্টে আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ২৮ অক্টোবর করা হয়।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-সমালোচনা না হলে কি বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা পরিবর্তন করা হতো? নাকি প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কাউকে সুবিধা দিতেই এই লুকোচুরি করা হয়েছিল?
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ গণমাধ্যমকে জানান, “বিজ্ঞপ্তিটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে এটি আমাদের ফেসবুক পেজে প্রচার করতে বলি। পরে দেখতে পাই আজকেই (২৬ অক্টোবর) এর লাস্ট ডেট। অতঃপর ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে আবেদনের শেষ তারিখ দুই দিন সময় বৃদ্ধি করি।” তিনি আরও জানান, এই বিজ্ঞপ্তিটি মূলত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে জনস্বার্থে তা প্রচার করেছেন।
অন্যদিকে, কুলিয়ারচর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন যে, বিজ্ঞপ্তিটি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রুপে এবং পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রচার করা হয়েছিল। তবে উপজেলা সরকারি ও যুব উন্নয়নের ওয়েবসাইটে খোঁজাখুঁজি করে ওই বিজ্ঞপ্তির কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের একটি বড় অংশ বিজ্ঞপ্তিটি দেখার আগেই যদি সময় শেষ হয়ে যায়, তবে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা নয়, বরং সম্ভাব্য আবেদনকারীদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তথ্য জানানো। তাই কুলিয়ারচরের এই ঘটনায় বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রচারের ঘাটতি এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সময় পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com