আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্য হাটবামুনী গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাঁদা দাবিতে বাড়িঘরে হামলা ভাঙ্চুরসহ লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মধ্য হাটবামুনী গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফারাজ উদ্দিনের পুত্র আজগার আলী হাটবামুনী মৌজার জেএল নং ৯, সি/এস খতিয়ান নং ২৯৩/৪০০, আর/এস খতিয়ান নং ৫৫৩, দাগ নং ১৭৪৩ এর ৮৯ শতাংশ জমি চাষাবাদে ভোগ দখল করে আসছে। এমতাবস্থায় একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত পরবাসুর পুত্র আনোয়ার হোসেনগং উক্ত জমি মিথ্যা দাবি করে বিজ্ঞ আদালতে অন্য ঘোষনামুলক ১৬৭/১২ নং একখানা মোকদ্দমা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা অন্তে গত ২০/০৩/১৮ ইং তারিখে খারিজ আদেশ প্রদান করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ৫৪/১৮ নং একখানা আপীল মোকদ্দমা দায়ের করলে তা বিজ্ঞ আদালত শুনানী অন্তে ১২/১০/২৫ ইং তারিখে গুনাগুনের ভিত্তিতে দোতরফাসূত্রে নামঞ্জুর করেন। বিজ্ঞ সিভিল জজ আদালতের অন্য-১৬৭/১২ নং মোকদ্দমার গত ২০/৩/১৮ ইং তারিখে রায় এবং ২৭/৩/১৮ ইং তারিখের স্বাক্ষরিত ডিক্রী বহাল রাখেন। এ ছাড়াও জি.আর-৭৮/২১ নম্বর একটি মোকদ্দমা দায়ের করলে তা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সাক্ষী সাবুদের বিচার বিশ্লেষনে আজগার আলী মুক্তি পান।
উক্ত নালিশী জমি আজগার আলী দীর্ঘদিন ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভোগদখলের এক পর্যায়ে এক পার্শ্বে মেয়ে আদরী বেগমের বাড়িঘর নির্মাণ করে বাকি অংশে শষ্যাদি চাষাবাদ করেন। প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনগং একাধিক মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করে জেল জরিমানা কিংবা জমাজমি বেদখল করতে না পেরে গত ০৪-০৯-২০২৬ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টায় আজগার আলী ও তাঁর মেয়ে আদরী বেগমের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ওই নালিশী জমিতে থাকা আদরী বেগমের বসতবাড়িতে হামলা করে ভাঙ্চুরসহ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজগার আলী নিজে বাদী হয়ে গত ১৯-০৯-২০২৬ ইং তারিখে আনোয়ার হোসেনসহ ১১জনকে বিবাদী করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা (নং ২৬/২৭৬) দায়ের করেন।
মামলার বিষয়ে প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, আজগার আলীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি জানান, “ওই নালিশী জমি ১শ’ বছর ধরে আমাদের ভোগদখলে। প্রথমে আমার পিতা ভোগদখল করেন। পরে পিতার দেওয়া দলিলমুলে আমরা তিন ভাই বর্তমানে ভোগদখল করে আসছি। ওই জমি এক সময় খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও মামলায় রায় পেয়ে এখনো আমাদের ভোগদখলে। আজগার আলী মিথ্যা দাবি করে ওই জমিতে ঘর তুললে আমাদের ভোগদখলীয় সুত্রে ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়। চাঁদা দাবি লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা।
জমি বিরোধে আমাদের কাবু করতে না পেরে তারা এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে। এটি নিছক আমাদের হয়রানি করা এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি নোংরা কৌশল।”
প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী আজগার আলী জানান, তিনি ওই নালিশী জমি ভোগ দখলীয় পিতার কাছ থেকে ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। এমতাবস্থায় সম্প্রতি ১৯৯০ সালের রেকর্ডে ওই জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলে তিনি রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেন। প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনগং ওই নালিশী জমি মিথ্যা দাবি করে আদালতে একাধিক মামলা করে দখলে নিতে না পারায় ঘটনার তারিখে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙ্চুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তিনি জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জমি কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা বসতবাড়িতে এই হামলা করেছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে ঘটনার নেপথ্য রহস্য। এতে করে মিলবে সৃষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com