যশোর জেলা প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার কামালপুর পশ্চিমপাড়ায় বাড়ির মূল ফটকের সামনে পৌরসভার সড়কে পাকা খুঁটি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বেড়া নির্মাণকারীদের দাবি, ওই জায়গাটি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. জালাল উদ্দীনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাড়ির মূল ফটকের সামনে দিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত একটি সোলিং রাস্তা ছিল। প্রায় ১৮ মাস আগে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ করে সেখানে ইউনিব্লক স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই পথ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করে আসছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিবেশী আরিচ মোল্যা, সোবহান মোল্যা ও উজ্জ্বল মোল্যা পাকা খুঁটি স্থাপন করে বাঁশের বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন। এতে জালাল উদ্দীনের পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, বেড়া নির্মাণকারীরা জায়গাটি নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। তবে জালাল উদ্দীনের দাবি, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে জায়গাটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি পৌরসভার প্রকল্পের আওতায় সেখানে উন্নয়নকাজও সম্পন্ন হয়েছে। তাই জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জালাল উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, চলাচলের পথে বেড়া দেওয়ায় তাঁর বাড়িতে বসবাসরত শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বাড়ির সামনে পর্যন্ত যানবাহন পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মো. জালাল উদ্দীন মনিরামপুর পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তার ওপর নির্মিত প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আবেদনের সঙ্গে পাকা খুঁটি ও বাঁশের বেড়া স্থাপনের ছবিও সংযুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় জমির দলিল, পৌরসভার রেকর্ড ও উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই করে জায়গাটির প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা নির্ধারণ করা হবে।
দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ নিয়ে এমন বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান চান এলাকাবাসী। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার এবং জমির মালিকানা—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পৌর প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com