আনোয়ার হোসেন | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। নিষিদ্ধ সময়ে কোনোভাবেই যেন জেলেরা নদীতে নামতে না পারে, সেজন্য ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান। উদ্ধার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, জরিমানা করা হচ্ছে আইন অমান্যকারীদের।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “মৎস্য বিভাগের এই নিয়মিত অভিযানের কারণে এবার নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ ধরার প্রবণতা অনেক কমেছে। তবে শুধু প্রশাসন একা নয়, আমরা যদি বাজারগুলোতে মা ইলিশ কেনা-বেচা পুরোপুরি বর্জন করতে পারি, তবেই এই অভিযান শতভাগ সফল হবে। আমাদের সবার সচেতন হওয়া জরুরি।”
অভিযানের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে এবার ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করছে প্রশাসন। যার ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্থানীয় জেলে পাড়াগুলোতে। অধিকাংশ জেলেই এখন নিষেধাজ্ঞা মেনে নদী থেকে দূরে থাকছেন এবং ইলিশের বংশবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব রায় জানান, “মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সার্বক্ষণিক নদীতে অবস্থান করছি। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে আশার কথা হলো, কড়া নজরদারি ও ব্যাপক প্রচারণার ফলে এবার জেলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। জেলেরা বুঝতে পেরেছেন যে, এখন মা ইলিশ রক্ষা করলে ভবিষ্যতে তারাই বেশি লাভবান হবেন। প্রজনন মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আগামীতে দেশের মৎস্য ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুন্দরগঞ্জবাসীর।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com