শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সেই শিক্ষার্থীর অপকর্মে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪৪৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সেই শিক্ষার্থীর অপকর্মে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা, ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সংগঠনের পদের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লোটা, ক্ষমতা প্রদর্শন, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক সুবিধার মতো একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতোপূর্বে এসব বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা তার নিজ সংগঠন বৈছাআ কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পূর্বে প্রকাশিত সংবাদ বরাত জানা গেছে, এর আগে ২৩ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তির প্রচারণামূলক প্রোগ্রামের চেয়ার, ক্যাবল এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির মতো বিব্রতকর ঘটনায় অভিযোগ উঠে ওই নেতার বিরুদ্ধে। এরপরে গত ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের তৎকালীন ডাইনিং ম্যানেজারের থেকে কৌশলে চেক হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টাসহ গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেসময় একটি রেকর্ডে ঐ নেতাকে বলতে শোনা যায় ‘আমি ম্যানেজারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি, ম্যানেজারি দায়িত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছে না।’ ধারাবাহিকতায় ১২ মে তার বিরুদ্ধে নিজের সহপাঠীর রিটেক পরীক্ষার ফি জমা না দিয়ে তাকে হুমকি ধামকি দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে। সেসময় বান্ধবী এবং তার মধ্যে কথোপকথনের একটি চ্যাট ফাঁস হয় যেখানে “প্রোটেকশন নিয়ে আসতে হবে”, “এখনও পর্যন্ত আমার কথায় ইবিতে অনেক কিছু হয়” এবং “ভিসিকে কল দিয়ে শুনো আমি কে” বলেও হুমকি দেন ছাত্রনেতা বাঁধন। বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে তাড়াহুড়ো করে বান্ধবীর রিটেক পরীক্ষা ফি জমা দিয়ে মীমাংসা করেন তিনি।

এরপর গত ১৯ জুন ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ইউনিটি’র নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা কমেন্ট ঘিরে ঐ ছাত্রনেতার একটি অডিও ফোনকল রেকর্ড ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া ঐ রেকর্ডে কমেন্টকারী শিক্ষার্থীকে দেখে নেয়ার হুমকি-ধামকি, আল্টিমেটাম ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে শোনা যায়।
সর্বশেষ গত ২৯ জুন জিয়া মোড় সংলগ্ন এলাকার চায়ের দোকানি ববিতা খাতুনের কান্নাজড়িত একটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তিনি ৫০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন ঐ নেতার বিরুদ্ধে। ভিডিয়োটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলে একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ছাত্রনেতা বাঁধন।

এসব অপকর্মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এমন স্থবিরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদের বিদায় দেখেছি, সেই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে এক ব্যক্তি বারবার অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষার্থীরা জানান, একজন সাধারণ ছাত্র চায়ের দোকানের টাকা মারবে, জুনিয়রদের গালি দেবে আর প্রশাসন আঙুল চুষবে তা হতে পারে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের উচিত তাকে অবিলম্বে পদচ্যুত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া, অন্যথায় এই আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থা শূন্যে কোঠায় পৌঁছাবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বাঁধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাঁধনের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ রয়েছে সেগুলোও উপাচার্যকে অবগত করা হয়েছে। শনিবারে বাঁধনের পরিবারকে আসতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com