এ কে এম মোহাম্মদ আলী, | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর নরসুন্দা নদী থেকে আরিফুল ইসলাম সালমান (২১) নামের এক যুবকের মরদেহের ৭৭টি হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ । পুলিশের দাবি, বন্ধুদের সাথে মাদক সেবনের সময় কথা-কাটাকাটির জেরে অন্য বন্ধুরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে । পরে সালমানের মরদেহ নরসুন্দা নদীতে কচুরীপানার নীচে লুকিয়ে রাখে বন্ধুরা । এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। হতভাগ্য সালমান হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো পাশ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব মিয়া (১৮) মাফি মিয়া (১৫) তারা দুই সহোদর অন্যরা হলো ঐ গ্রামের মৃত মোতালেবের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০) এবং শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)। গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইলিম পর্দানীর বাজারের উদ্দেশে বের হন সালমান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন । এরই ধারাবাহিকতায় সালমান নিখোঁজের আসল রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি, তারা প্রযুক্তির সহায়তায় সালমান ও তার বন্ধুদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে গত ১৫ অক্টোবর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর চৌকিদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেফতার করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরো জানান, মাদকদ্রব্য সেবনের সময় সালমানের সঙ্গে তার সহযোগীদের কথা-কাটাকাটি হয় । একপর্যায়ে সালমান বাঁশ দিয়ে বন্ধু মাফিকে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যরা তার কাছ থেকে বাঁশ কেড়ে নিয়ে সালমানকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে । পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার(১৬ অক্টোবর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলার বাসুরচর গ্রামের সীমান্তবর্তী হাতিমের স্কুলের পাশের নরসুন্দা নদী থেকে সালমানের কঙ্কালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয় । যার মধ্যে ছিল মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ মোট ৭৭টি হাড় ও তার শরীরে থাকা একটি গেঞ্জি।উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে গেঞ্জি দেখে কঙ্কালটি সালমানের বলে শনাক্ত করেন তাঁর মা সালমা বেগম। উদ্ধার করা হাড়ের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ৷ এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাহার মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com