মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা মায়ার বন্ধন—সবকিছুরই আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটল এক আবেগঘন আয়োজনে। যাঁদের শ্রম, মেধা ও ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবার তাঁদেরই বিদায় জানাতে গিয়ে ভারী হয়ে উঠল সহকর্মীদের হৃদয়। ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন যশোরের মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের তিন গুণী শিক্ষক।
বিদায়ী সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষকরা হলেন ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মিতা রায়, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৃণাল কান্তি কুন্ডু এবং দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জু বিশ্বাস। কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। তাঁদের হাত ধরেই অসংখ্য শিক্ষার্থী পেয়েছে জ্ঞানের আলো, পেয়েছে জীবনের পথচলার প্রেরণা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আফরোজা মাহমুদ। রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় বিদায়ী অতিথিরা তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য সহকারী অধ্যাপক মো. মহিবুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক বিএম আব্দুল আলিম, সহকারী অধ্যাপক দিলরুবা আফরোজ, সহকারী অধ্যাপক নীহার রঞ্জন হালদার, অধ্যাপক সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল ইমরান এবং সিনিয়র প্রভাষক আল মাহমুদ।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আফরোজা মাহমুদ বলেন, ‘যাঁরা তিল তিল করে এই প্রতিষ্ঠানকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, আজ তাঁদের বিদায়লগ্নে আমাদের বুকটা ভারী হয়ে আসছে। তাঁদের অবদান ও স্মৃতি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে থাকবে। তাঁদের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
বিদায়ী শিক্ষক মিতা রায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই কলেজের প্রতিটি ইটের সঙ্গে আমাদের আবেগ, শ্রম ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী এবং স্নেহের শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়া সত্যিই অনেক কষ্টের। জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এখানে কাটিয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই।’
সহকারী অধ্যাপক মঞ্জু বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি ব্রত। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।’
সহকারী অধ্যাপক মৃণাল কান্তি কুন্ডু বলেন, ‘আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না। কলেজের প্রতিটি সাফল্য ও অগ্রগতির সঙ্গে আমাদের স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও উচ্চ শিখরে পৌঁছাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সঞ্চালক সহকারি অধ্যাপক বাবুল আকতার বলেন,অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলা, শ্রেণিকক্ষের স্মৃতি আর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা নিয়ে বিদায়ী শিক্ষকদের এই প্রস্থান যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, অন্যদিকে রেখে গেল অনুপ্রেরণার এক অমলিন উত্তরাধিকার। কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও তাঁদের অবদান ও স্মৃতি মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com