শফিকুল ইসলাম।বাদল | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের লবখাঁ নদীর ঘাটে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ড্রেজারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল বোঝাই একটি নৌকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাছির ভুঁইয়া (৫৫)। এ ঘটনায় সমির মিয়াসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী বাছির ভুঁইয়ার অভিযোগে, গত ২১ অক্টোবর বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে লবখাঁ নদীর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি মূলগ্রাম ইউনিয়নের লবখাঁ নদীর ঘাট এলাকায় বালু ড্রেজিংয়ের কাজ করতে যান। কাজ শেষে ড্রেজারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল নৌকাযোগে নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর নৌকাটি আটকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাছির ভুঁইয়া দাবি করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ড্রেজারের মালামাল বোঝাই নৌকাটি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে মালামাল আত্মসাৎ করা হবে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশসহ গুরুতর ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ অনেক সময় মুখ খুলে সত্য কথা বলার সাহস পান না।
বাছির ভুঁইয়া জানান, ঘটনার পর তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় অভিযুক্তরা ড্রেজারের মালামাল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং এ জন্য নির্দিষ্ট সময়ের কথা জানান বলে তাঁর দাবি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মালামাল ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।
বাছির ভুঁইয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাসহ ড্রেজারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল বর্তমানে আটকে রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আটকে থাকা মালামালের মধ্যে রয়েছে—
১. একটি স্টিলের নৌকা, আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ্য টাকা।২. ছয়টি সিলিন্ডার ইঞ্জিন, আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ হ্যাঁ টাকা।
৩. ২৪ ও ১৬ গোড়ার দুটি ইঞ্জিন, আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা।
৪. তিনটি মেশিন পাম্প, আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৫. ছয় ইঞ্চি ব্যাসের ৫ হাজার ফুট পাইপ, আনুমানিক মূল্য ৮ লক্ষ্য টাকা।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, এসব মালামালের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা মালামালের পরিমাণ, মূল্য এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কসবা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ১ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে সামির মিয়া (৪১), পিতা মৃত আরব আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাছির মিয়া (৪৫), খোকন মিয়া (পিতার নাম অজ্ঞাত) এবং ইয়াসিন মিয়া (৩৫), পিতা আব্দুল কাশেমের নাম রয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, নিরুপায় হয়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর নৌকা ও ড্রেজারের মালামাল উদ্ধার, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কসবা থানা ওসির মোবাইলে ফোন দিয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com