শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

জলবায়ু সহনশীল নগর গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

পার্থ হক   |   সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জলবায়ু সহনশীল নগর গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে টেকসই ও সহনশীল নগর গড়ে তুলতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ঢাকায় জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে ‘জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এ আয়োজনে নগর উন্নয়ন, ন্যায্য রূপান্তর এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ক্লাইমেট পার্লামেন্ট, CLEAN, ReGlobal, NEXT50, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, Climate Connects এবং আমরাই আগামীর যৌথ উদ্যোগে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, নাগরিক সমাজের সংগঠন, শিক্ষাবিদ, তরুণ প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

আলোচনায় নগরাঞ্চলে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও জলাবদ্ধতাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন, এমপি। বক্তব্যে তিনি নগরের জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও বিভিন্ন অংশীজনের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে সংলাপে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভবিষ্যতে নাগরিক সমাজের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগের সুফল ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। তিনি নগরগুলোর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্টাল লাইভলিহুড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (CLEAN) প্রধান নির্বাহী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (BWGED) সদস্যসচিব হাসান মেহেদী। তাঁর আলোচনায় নগর জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে ন্যায্য রূপান্তর, শ্রমিকদের অধিকার, জীবিকার সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার গুরুত্ব উঠে আসে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।

উন্মুক্ত গোলটেবিল আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাত, নাগরিক সমাজ, এনজিও, গণমাধ্যম এবং তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা নীতি বাস্তবায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। জলবায়ুবিষয়ক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

COP31 সামনে রেখে বাংলাদেশের জলবায়ুবিষয়ক অ্যাডভোকেসি জোরদার করাও সংলাপের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এ জন্য নগর জলবায়ু সহনশীলতা, ন্যায্য রূপান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে কার্যকর সুপারিশ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংলাপে উঠে আসা সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে একটি অ্যাডভোকেসি ডকুমেন্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা ও সম্পৃক্ততা এগিয়ে নিতে দলিলটি সহায়ক হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com