কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:বিএম আলামিন | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কবলে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের খুলনার কয়রা ও দাকোপ থানার পৃথক এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
প্রথম অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী খুলনার কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা জিম্মি জেলেদের রেখে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাত দলের কবলে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, পৃথক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও কোস্ট গার্ড স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে পালিয়ে যায়। ফলে এ অভিযানেও কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের ৫২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তারা সবাই খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।
উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
প্রেস ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তা: লেফটেন্যান্ট মীর আকিব মোস্তাফিজ (এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com