শফিকুল ইসলাম বাদল | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪৭৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বর্ষা মৌসুমের আগমনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শুরু হয়েছে দেশীয় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। কাঠমিস্ত্রীরা দিনরাত কাজ করে তৈরি করছেন ডিঙি, কোষা ও ভিঙি নৌকা। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব নৌকার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নৌকা তৈরি ও বিক্রির অস্থায়ী হাট।

তিতাস, মেঘনা ও বুড়ি নদীবেষ্টিত নবীনগরের অধিকাংশ গ্রাম বর্ষাকালে জলাবদ্ধ ও প্লাবিত হয়ে পড়ে। ফলে এ সময় মানুষের চলাচল, কৃষিকাজ, গবাদিপশুর খাদ্য পরিবহন, খেয়া পারাপার এবং মাছ ধরার প্রধান বাহন হয়ে ওঠে নৌকা। নদী তীরবর্তী অনেক গ্রামের স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করে।
সরেজমিনে উপজেলার সাদেকপুর, আয়তলা, মনিপুর, চিত্রি ও চরলাপাং গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কোথাও নতুন নৌকা তৈরির ধুম, আবার কোথাও পুরোনো নৌকা মেরামত ও রং-আলকাতরা দিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। অনেক মৌসুমি জেলে বর্ষার মাছ ধরার প্রস্তুতি হিসেবে তাদের নৌকা সংস্কারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নৌকার মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার উপজেলায় শত শত নতুন নৌকা নির্মাণ করা হচ্ছে। আলমনগর, লাপাং, শিবপুর, বাঙ্গরা, শ্রীঘর, খাগাতুয়া, লহরী ও রাধানগরসহ নদীঘেঁষা গ্রামগুলোতে যুগ যুগ ধরে নৌকা ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে। এসব গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের বর্ষাকালে চলাচলের জন্য অন্তত একটি করে নৌকা রয়েছে।
উপজেলার আলমনগর গ্রামের নৌকা কারিগর মধু সূত্রধর জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে নৌকা তৈরির কাজ করছেন। বর্ষা এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গাব, কড়ই ও মেহগনি কাঠ দিয়ে বেশি নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠের পাশাপাশি মাটিয়া তেল, আলকাতরা, তারকাটা, গজাল ও পাতামসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। দুইজন কারিগর মিলে প্রতিদিন একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, ১২ হাত দৈর্ঘ্যের একটি নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। সেটি বিক্রি হয় সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়। ছোট আকারের নৌকা তৈরিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়।
একই গ্রামের কারিগর অবনি নাথ জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা শুরুর আগেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেক অর্ডারও পেয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছর দুই শতাধিক নৌকা বিক্রি করেছিলেন। তবে এবার কাঠসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকার দামও কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।
বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নবীনগরের গ্রামীণ জনপদে তাই আবারও ফিরে এসেছে নৌকা নির্মাণের পুরোনো ঐতিহ্য। এই মৌসুমি শিল্প শুধু স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজনই মেটায় না, বরং বহু কারিগরের জীবিকা নির্বাহেরও অন্যতম অবলম্বন হয়ে উঠেছে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com