নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৬৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত, উপকারভোগীর তালিকায় স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ, অডিও রেকর্ড এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।
বীরসিংহপাড়ার বাসিন্দা রাশেদা বেগমের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তিনি এখনো টিউবওয়েল বা টাকা ফেরত পাননি।
পলমাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। গ্রামের বাসিন্দা কবি ও সাহিত্যিক আকিকুর রহমান তালুকদার দাবি করেন, প্রকল্পের বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
এ ছাড়া দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত ও ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালের বন্যার সময় কয়েকজনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।
ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তা বিতরণের তালিকায় প্রকৃত অসহায়দের পরিবর্তে নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, বীরসিংহপাড়ার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নামজারির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি।
পলমাটি গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের অভিযোগ, তার কৃষিজমি থেকে যন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুজন মিয়ার লোকজন জড়িত বলে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মামলা ও হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকল্পের বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, মাস্টাররোল, উপকারভোগীর তালিকা ও অন্যান্য নথি যাচাই করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সদস্য সুজন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য নম্বর থেকে যোগাযোগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com