শফিকুল ইসলাম বাদল | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের উত্তর মোড়াইলের পুনিয়াউট রোড এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘মদিনা থাই অ্যান্ড পারটেক্স গ্যালারি’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গোডাউন পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় গোডাউনে মজুত থাকা মেলামাইন বোর্ড, পিভিসি বোর্ড, ইউভি বোর্ড, এমডিএফ বোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বখতিয়ার আহমেদ খান মহসিন।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সঞ্চয় ও কষ্টার্জিত সম্পদ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন তিনি। আগুনে গোডাউনের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ ব্যবসায়ী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তাহাজ্জুদের নামাজে যাওয়ার পথে আগুন দেখতে পান মুসল্লি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৪টার দিকে উত্তর মোড়াইলের পুনিয়াউট রোড এলাকায় অবস্থিত মদিনা থাই অ্যান্ড পারটেক্স গ্যালারির গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ সময় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে এক মুসল্লি গোডাউনের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বখতিয়ার আহমেদ খান মহসিনকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ব্যবসায়ী। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে, ততক্ষণে পুড়ে ছাই মূল্যবান মালামাল
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে গোডাউনে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডে মেলামাইন বোর্ড, পিভিসি বোর্ড, ইউভি বোর্ড, এমডিএফ বোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। এসব মালামাল ব্যবসার জন্য গোডাউনে মজুত রাখা হয়েছিল। আগুনে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
‘বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন আগুনে ছাই হয়ে গেল’
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বখতিয়ার আহমেদ খান মহসিন বলেন, “মুহূর্তের মধ্যেই আমার বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা কষ্টার্জিত স্বপ্ন আগুনে ছাই হয়ে গেল। দোকানে বিপুল পরিমাণ মেলামাইন, পিভিসি, ইউভি ও এমডিএফ বোর্ড ছিল, যার কিছুই আমি রক্ষা করতে পারিনি। এতে আমার আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ব্যবসার মাধ্যমে তিনি যে সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে তার বড় একটি অংশ হারিয়ে গেছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তার একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর খোঁজখবর নিলেন সংসদ সদস্য ও আকিজ পার্টিকেল বোর্ডের কর্মকর্তারা
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে টেলিফোনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বখতিয়ার আহমেদ খান মহসিনের খোঁজখবর নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। এ ছাড়া আকিজ পার্টিকেল বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নজরুল ইসলাম এবং সিলেট রিজিওনাল ম্যানেজার কাজী শাহরিয়ার ইসলামও টেলিফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই আকিজ পার্টিকেল বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আনোয়ার হোসেন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পুনর্বাসন কিংবা আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি সহায়তার আকুতি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ মালামাল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বখতিয়ার আহমেদ খান মহসিন। ব্যবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখা এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরির জন্য তিনি জরুরি সরকারি আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন।
তার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকারি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেবেন।
অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ দাহ্য বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন সামগ্রী মজুত রাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সংযোগ, তারের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি বহির্গমনব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, মানসম্মত তার ও সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সংরক্ষণ এবং কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মদিনা থাই অ্যান্ড পারটেক্স গ্যালারির গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com