সিনিয়র রিপোর্টার : আব্দুস সালাম মোল্লা | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার ক্ষেতে অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
অতিওভারি বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
যার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে কাঁচা মরিচের কেজি প্রতি দর বেড়ে দাড়িয়েছে তিনশত টাকা ছাড়িয়েছে।
জেলার কৃষিপ্রধান উপজেলা মধুখালী একসময় সবুজ মরিচের গাছে মাঠ ভরা থাকত। কিন্তু এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা ভারি বৃষ্টিতে এসব মাঠ এখন পানিতে ডুবে মৃতপ্রায়।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি ওঠায় মরিচ গাছ পচে ও মারা গেছে।ফলে মরিচ আবাদে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।”
উপজেলার কৃষকদের দাবি, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে।
রায়পুর ইউনিয়নের মরিচ চাষি রোকনউজ্জামান বলেন, “অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন বাধ্য হয়ে ক্ষেত তুলে ফেলতে হচ্ছে।”
আরেক চাষি ফিরোজ মিয়া বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে উৎপাদন খরচ আগেই বেড়েছিল। তার ওপর বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও উঠে আসছে না। যা খরচ করেছি, তার অর্ধেকও ওঠেনি।
চাষিরা জানালেন, এখন সরকারি সহযোগিতা পেলে তারা আবার নতুন করে ঘুরে দাড়াতে পারবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় মরিচ আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৭০৬ টন।
তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
ফরিদপুর শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার, হেলি প্যাড বাজার গিয়ে দেখা যায়, প্রকার ভেদে মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন বাজারে মরিচের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজার দরে।
ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, “মাঠে মরিচ নেই, কিন্তু বাজারে ঝালের দাম বাড়ছেই। আশঙ্কা করছি, কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা না মিললে আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি করছি।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com