শফিকুল ইসলাম বাদল | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বসুন্ধরা এলপিজি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডার নিয়ে চলছে ব্যাপক মূল্য নৈরাজ্য। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও খুচরা দোকানে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের তথ্যমতে, নবীনগর পৌরসভা এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজারে ১২ কেজির একটি বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত খুচরা মূল্যের তুলনায় এ দাম অনেক বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু খুচরা বিক্রেতা ও ডিলার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকটের অজুহাত তৈরি করে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে রেখেছেন। একই ব্র্যান্ডের গ্যাস সিলিন্ডার মাত্র কয়েক গজের ব্যবধানে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে।একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাস কিনতে গেলে দোকানিরা সরাসরি বলে দেন, নিতে চাইলে নেন, না হলে চলে যান। মাল কম আছে। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তাগিদে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।”গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির দায়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করলেও নবীনগরের খুচরা বাজারে এর দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে না। নিয়মিত বাজার তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে একশ্রেণির ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন।এদিকে এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের বাড়তি দাম তাদের পারিবারিক ব্যয়ে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থায় নবীনগরের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী ক্রেতারা দ্রুত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গ্যাস বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com