শফিকুল ইসলাম।বাদল | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক আলী আজ্জম। তিনি প্রথমবারের মতো এক একর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলন হলে আগামী মৌসুমে এ বাগান থেকে ৮ থেকে ১০ টন ড্রাগন ফল উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, ড্রাগন ফল বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খুব বেশি অম্লীয় বা ক্ষারীয় নয়—এমন প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফলের চাষ সম্ভব। তবে উচ্চ জৈব পদার্থসমৃদ্ধ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত বেলে-দোআঁশ মাটি এ ফল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।ড্রাগন ফল ক্যাকটাস পরিবারের উদ্ভিদ হলেও অন্যান্য ক্যাকটাসের মতো মরু অঞ্চলের ফসল নয়। এর উৎপত্তি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত আলো এবং সুনিষ্কাশিত জমি প্রয়োজন।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ফুল ঝরে যাওয়া, ফল পচে যাওয়া ও গাছের গোড়ায় পচন রোগ দেখা দিতে পারে। তাই চাষের ক্ষেত্রে জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরিড্রাগন ফলের গাছ নরম কাণ্ডবিশিষ্ট হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য অবলম্বন হিসেবে সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু খুঁটির সাহায্যে গাছকে ওপরে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে খুঁটির মাথায় গোলাকার রেলিং বসানো হলে গাছের ডালপালা ছাতার মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতে গাছের বৃদ্ধি ও ফল ধারণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়।সাধারণত ড্রাগন ফলের বংশবিস্তার ডাল বা কাটিংয়ের মাধ্যমে করা হয়। উপযুক্ত পরিচর্যা, জৈব সার ও প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করতে পারলে চারা রোপণের ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। তৃতীয় বছর থেকে গাছের ফলন আরও বাড়ে। পূর্ণবয়স্ক বাগানে প্রতি একরে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ টন পর্যন্ত ফল উৎপাদন সম্ভব বলে কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com