শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার (সেকেন্ড টাইম) অংশগ্রহণের সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে সরব হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী সাধারণ ছাত্রসমাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৪৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার (সেকেন্ড টাইম) অংশগ্রহণের সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে সরব হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী সাধারণ ছাত্রসমাজ।
১৫৪

 

দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা রাজধানীর ঐতিহাসিক রাজু ভাস্কর্য ও শাহবাগে দফায় দফায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, তৎকালীন সরকারের আমলে ২০১৪ সালে চাপিয়ে দেওয়া এই কালো আইন ও নিয়মটি মূলত একটি মেধা-নিধন প্রকল্প।

এর মাধ্যমে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে চরম সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্য এবং রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলনরত প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বরাবর একটি বিস্তৃত স্মারকলিপি ও দাবি-সনদ হস্তান্তর করেছে। স্মারকলিপিতে ২০১৪ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে জারিকৃত এই সিদ্ধান্তকে মেধা-নিধনমূলক ও বৈষম্যকারী হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়।


স্মারকলিপি প্রদানের পাশাপাশি দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ শিক্ষকদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তারা বৈশ্বিক অ্যাকাডেমিক মানদণ্ড, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সুযোগের সমতা, বাফার সিট (Buffer Seat) মডেল এবং নম্বর সমন্বয় পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক রূপরেখা ব্যাখ্যা করছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহ এবং গুচ্ছভুক্ত শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে সফলভাবে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা চালু রয়েছে, সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুযোগ বন্ধ রাখা চরম নীতিগত দ্বিচারিতা। এই নিয়ম শুধু শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় ও আত্মহত্যার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে না, বরং যোগ্য মেধাবীদের বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য করে রাষ্ট্রীয় মানবসম্পদের অপপূরণীয় ক্ষতি করছে।

১. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: মেধার কি কোনো এক্সপায়ারি ডেট আছে?

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল প্রশ্ন, খাবার বা ওষুধের মেয়াদ শেষ হতে পারে, কিন্তু মেধার কি কোনো এক্সপায়ারি ডেট (Expiry Date) বা মেয়াদের সীমা আছে?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মেধার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তত্ত্বকে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক, ভিত্তিহীন ও খোঁড়া অজুহাত বলে অভিহিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলেন, মাত্র ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টার একটি পরীক্ষা কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীর বিগত ১২ বছরের (স্কুল ও কলেজ জীবন) মেধা ও পরিশ্রমের চূড়ান্ত বিচারদণ্ড হতে পারে না। হঠাৎ অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা কোনো মানবিক ভুলের কারণে পরীক্ষা খারাপ হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুলকে পুঁজি করে চিরতরে সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া একটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানদণ্ডের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে শিক্ষার্থীরা তাদের যুক্তিতে জানান:
• বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ: বিশ্বখ্যাত ভর্তি পরীক্ষা চীনের ‘গাওকাও’ (Gaokao)-তে শিক্ষার্থীরা আনলিমিটেড (তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চমবার) পরীক্ষা দিতে পারে। ভারতের খ্যাতনামা ‘আইআইটি’ (IIT)-তে পরপর দু’বার বসার সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার রয়েছে।

• গ্যাপ ইয়ার (Gap Year) ও পরিপক্কতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড বা এমআইটি-র মতো শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের এক বা দুই বছর ‘গ্যাপ ইয়ার’ নিতে উৎসাহিত করে। আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিরতি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্ক (Mature), সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং গবেষণামুখী হয়।

• বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চিত্র: দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহ, গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব শীর্ষ বিদ্যাপীঠে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা সফলভাবে চালু রয়েছে। তাছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় যেখানে একজন প্রার্থী ৪ থেকে ৫ বার সুযোগ পান, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া নীতিগত দ্বিচারিতা।

২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাবঃ

স্মারকলিপি ও ইশতেহারে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড টাইম বন্ধ রাখার ফলে জাতীয় পর্যায়ে বহুমুখী ক্ষতি সাধিত হচ্ছেঃ

1. হিউম্যান ক্যাপিটাল অবক্ষয় ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের ক্ষতি: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত একজন নাগরিকের পেছনে রাষ্ট্র যে বিপুল ভর্তুকি দেয়, তা হলো কৌশলগত বিনিয়োগ। স্রেফ এক ঘণ্টার পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রার্থীকে যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ না দিলে সেই ১২ বছরের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ‘মৃত পুঁজিতে’ (Dead Capital) পরিণত হয়।

2. শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও কোচিং মাফিয়ার বিস্তার: প্রথমবারই যেকোনো মূল্যে চান্স পাওয়ার তীব্র ইঁদুর-দৌড়কে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার কোচিং ব্যবসা ফায়দা লুটছে। শিক্ষাকে মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বদলে এক ব্যয়বহুল পুঁজিতান্ত্রিক পণ্যে রূপান্তর করা হয়েছে।

3. প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য (ডিজিটাল ডিভাইড): কুড়িগ্রাম, বান্দরবান বা ভোলার মতো দূরবর্তী প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ঢাকার মতো মানসম্মত কোচিং, ইন্টারনেট বা তথ্যগত সুবিধা পায় না। তাদের জন্য প্রথম পরীক্ষাটি থাকে পরিবেশ চেনার অভিজ্ঞতা। পরবর্তীতে ঘাটতি শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ করে দিয়ে মূলত শহুরে উচ্চবিত্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদের (সুযোগের সমতা) চরম লঙ্ঘন।

4. অনিচ্ছুক গ্র্যাজুয়েট ও ব্রেইন ড্রেন (Brain Drain): প্রথমবার অনিশ্চয়তার কারণে অপছন্দের বিষয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্ররা অনিচ্ছুক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে, যা কর্মক্ষেত্রের ইনোভেশন ও জিডিপিতে অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাছাড়া যোগ্য মেধার ওপর প্রশাসনিক দেয়াল তোলায় দেশের সেরা মেধাবীরা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি জমাচ্ছে (মেধা পাচার)।

5. মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়: ১৮-১৯ বছরের একজন তরুণকে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ না দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র যখন সব দরজা বন্ধ করে দেয়, তখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

৩. রাজনৈতিক ট্যাগিং ও প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিগত ১১-১২ বছর ধরে যখনই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও সেকেন্ড টাইমের যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছে, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল অযোগ্য, অলস ও সুবিধাবাদী নীতিনির্ধারক নিজেদের চেয়ার ও ব্যর্থতা ঢাকতে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সরকারবিরোধী’ তকমা সেঁটে দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা একে চাটুকারদের নোংরা চাল বলে অভিহিত করে বলেন, মেধার মূল্যায়নের জন্য লড়াই করা কোনো সরকারবিরোধী কাজ নয়, এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে এই ধরনের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং এবং ট্যাগিংয়ের রাজনীতি আর সহ্য করা হবে না।

৪. প্রশাসনের শঙ্কা বনাম শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট ও নীতিগত সমাধান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতীতে লজিস্টিক সমস্যা ও আসন ফাঁকা হওয়ার (ড্রপআউট) যে অজুহাত দেখিয়েছে, আন্দোলনকারীরা আধুনিক নীতি-কৌশল ও গাণিতিক মডেলে তার সমাধান পেশ করেছেন:

• আসন আটকে রাখার মানসিকতা দূরীকরণ: সেকেন্ড টাইম চালু থাকলে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার অভাবে প্রথম বছরেই জোর করে অপছন্দের বিভাগে আসন আটকে রাখবে না; বরং তারা নিশ্চিত থাকবে যে সামনে আরেকটি সুযোগ আছে।

• বাফার সিট (Buffer Seat) মডেল: এক বছর পর শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা একটি স্বাভাবিক বৈশ্বিক প্রক্রিয়া (বুয়েট, মেডিকেল বা বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে ফার্স্ট টাইমারদের মধ্যেও ড্রপআউট হয়)। পৃথিবীর অন্যান্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এই ডাটা বিশ্লেষণ করে শুরুতেই ৫% থেকে ১০% ‘বাফার সিট’ বা অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ রাখে।

• দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নম্বর সমন্বয় পদ্ধতি: শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নীতিগত বিকল্প হিসেবে নম্বর সমন্বয় (Mark Deduction) পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ফার্স্ট টাইমারদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে এবং অলরেডি কোথাও ভর্তি থাকা সেকেন্ড টাইমারদের ক্ষেত্রে ইনসাফভিত্তিক নীতি প্রয়োগ করে আসন অপচয় রোধ করা যায়।

৫. ১০-দফা গণ-ইশতেহার (People’s Manifesto & Charter of Demands)
আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষ স্নাতকে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের পক্ষে ১০টি মূল দাবি ও যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেছে:

1. শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করা: আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক মানদণ্ডে উন্নীত করা।

2. বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ: গাওকাও, আইআইটি, কিংবা বৈশ্বিক গ্যাপ ইয়ার ধারণার সাথে সামঞ্জস্য রাখা।

3. মেধা পাচার ও অনিচ্ছুক গ্র্যাজুয়েট রোধ: অপছন্দের বিষয়ে জোরপূর্বক ভর্তি বন্ধ করা ও ব্রেইন ড্রেন ঠেকানো।

4. প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা: ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া দূরবর্তী অঞ্চলের প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ উন্মুক্ত করা।

5. সাংবিধানিক সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ: সংবিধানের ১৯(১) অনুচ্ছেদ মান্য করা এবং প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ৯৩ বছরের ইতিহাস ধরে রাখা।

6. প্রশাসনিক গোঁড়ামি ও অলসতা থেকে উদ্ধার: ডিজিটাল অদক্ষতা ও আমলাতান্ত্রিক আমলাতন্ত্রের যাতাকল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা।

7. ইতিহাস, গৌরব ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার: ঢাবির রক্তস্নাত ইতিহাস ও দীর্ঘ ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা।

8. নীতিগত দ্বিচারিতা অবসান: মেডিকেল, গুচ্ছ ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঢাবিতেও একই নীতি চালু করা।

9. কুক্ষিগত শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার: কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে শিক্ষাকে সর্বজনীন ও প্রসারিত করা।

10. স্বৈরাচারের কালো আইন উৎখাত: ২০১৪ সালের তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ ও বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করা।

৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর চূড়ান্ত বার্তাঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বরাবর পেশকৃত স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ দুর্গ হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলের এই একগুঁয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্বাধীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে আর এক সেকেন্ডও চলতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ও হুশিয়ারিঃ
• অবিলম্বে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা আহ্বান করতে হবে।

• একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নম্বর সমন্বয় ও বাফার সিট কার্যকর করে স্নাতকে সেকেন্ড টাইম ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহাল করতে হবে।

ছাত্রসমাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি অনতিবিলম্বে নির্বাহী আদেশে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে সেকেন্ড টাইম ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, তবে অধিকার আদায়ে রাজপথে বারুদের মতো জ্বলে উঠে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
.
আরও
Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com