মাসুদ রায়হান যশোর জেলা প্রতিনিধি: | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই সংস্কৃতি চর্চার জাগরণ সৃষ্টি করেছে কেশবপুরের চারুপীঠ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সংস্কৃতি চর্চার বাতিঘর হিসাবে পরিচিত।
যশোরের কেশবপুরে চারুপীঠ নামের এই প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছিল ২০১২ সালে। সাংস্কৃতিক কর্মী উৎপল দে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলোন এই প্রতিষ্ঠানটি।
মাত্র ১২ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী নিয়ে ছোট একটা ভাড়া ঘরে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ছোট্ট ছোট্ট সোনামণিদের রঙিন তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে আলোকিত হয়ে উঠলো ছোট্ট সেই ঘরটা। সেই আলোর প্রভা আজ কেশবপুরকে আলোকিত করে চলেছে। চারুপীঠ আর্ট স্কুল থেকে চারুপীঠ একাডেমি তে রুপান্তর করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই উপজেলা,জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে থাকে।
বর্তমানে আটটি শাখায় প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার সকাল-বিকাল ৪৩২ জন শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে চিত্রাংকন, সংগীত,নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, সুন্দর হাতের লেখা,মার্শাল আর্ট কেরাত, গিটার ও তবলা শিখছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছে ১৪ জন । চারুকারুর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে অক্সিজেন পরিষেবা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, হনুমানদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। চিত্রাংকন উৎসব, পহেলা বৈশাখ পালন,রবীন্দ্র -নজরুল জন্মজয়ন্তী, ফল উৎসব সহ নানা অনুষ্ঠান করে থাকে। চিত্রাংকন বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ঘ্য পাইন ও সামিয়া ফরহাদ জানায়, স্যাররা খুবই যত্নসহকারে আমাদের হাতে ধরে ছবি আঁকানো শেখায়।
এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ অবদান রাখায় খুলনা বঙ্গকথা সামাজিক সংগঠন, খেলাঘর আসর, কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ, ডাক্তার হাসনাত ফাউন্ডেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এমএস ডবলু, বাংলাদেশ দলিত মঞ্চ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থী গোধূলী সেন ও দিপান্বিতা মিত্র গল্প বলেন শিক্ষকরা সুন্দর ভাবে আমাদের নাচ শেখায়।চারুকারু শিক্ষার্থী অনন্যা কুন্ডু ও রাখি দে জানান কাগজ কেটে নকশা, আল্পনা, মুখোশ তৈরি মাটির উপকরণ তৈরি, প্যাস্টেল ও জল রং শিখি এখানে।
সংগীত ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যয়ী ঘোষ, দিপ দেবনাথ জিৎ ও রুপকথা দে বলেন এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সহিত সংগীত চর্চা করান। এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। সুন্দর হাতের লেখা,তবলা গিটার ও মার্শাল আর্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মন,
উইলিয়াম প্রত্যয় ও হিয়া
জানান এখানে শেখানোর কৌশল অনেক সুন্দর।শিশুদের মেধা বিকাশিত করে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে চারুপীঠ একাডেমি। চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, সংগীত, গিটার, তবলা, মার্শাল আর্ট ও সুন্দর হাতের লেখা শেখানোর মাধ্যমে চারুপীঠ একাডেমি সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
২০২৫ সালে সংস্কৃতি পরিষদের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে চারুপীঠ একাডেমি উপজেলায় শ্রেষ্ঠ হয়েছে। ১১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।
এ ব্যাপারে চারুপীঠ একাডেমীর পরিচালক উৎপল দে বলেন ছাত্র জীবন থেকেই স্বপ্ন ছিলো। শিশুদেন নিয়ে কাজ করার। নিজেও বাংলাদেশ শিশুএকাডেমি কেশবপুর শাখায় বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছি। তারপর নিজেই গড়ে তুলেছিলাম এই প্রতিষ্ঠানটি। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো বলে মনে করি। ভাড়াকৃত অফিসের পাশাপাশি সম্প্রতি নিজস্ব জমিতে গড়ে তুলেছি একটি ক্যাম্পাস। তবুও অনেক দীনতা আছে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
সভাপতি লেখক ও সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার বলেন কেশবপুরের আলোকিত প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল প্রতিভাকে বিকশিত করা এবং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com