মাসুদ রায়হান, যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ | রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৪ নম্বর দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর দল গঠন ও বাছাই পর্বের অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার চিত্র দেখা গেছে। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শ্যামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত বাছাই পর্বে এমন পরিস্থিতি চোখে পড়ে।
জানা গেছে, দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে সরেজমিনে গিয়ে নির্ধারিত অংশগ্রহণ ও আয়োজনের প্রত্যাশিত চিত্র দেখা যায়নি। এ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই দিনে বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষা থাকায় শিক্ষকদের একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, অন্যদিকে স্পোর্টসের বাছাই পর্বে উপস্থিত থাকার চাপ—এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
শিক্ষকদের কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, আগের রাতে হঠাৎ করে জানানো হয়, পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে সবাইকে শ্যামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে। এত অল্প সময়ের নোটিশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই মাঠে একত্রিত করায় আয়োজনের শৃঙ্খলা ও সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা না থাকায় মাঠে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে শ্যামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠান হওয়ায় তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে আয়োজনের সার্বিক বিষয়ে সভাপতি ভালো বলতে পারবেন।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সভাপতি নই, চেয়ারম্যান সভাপতি।”
আয়োজনের দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এমন বক্তব্যে উপস্থিত অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনুষ্ঠানটি কী উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হচ্ছে, এর কার্যক্রম কী এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে—এসব বিষয়েও স্পষ্ট কোনো আলোচনা বা বক্তব্য শোনা যায়নি বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি।
সব মিলিয়ে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে এমন অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার দৃশ্য হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত সচেতন মহল।
তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আগে থেকেই বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়, পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনা, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট করা জরুরি। অন্যথায় সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com