শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সাদুল্লাপুরে ভাঙচুরের মামলা : আইনি লড়াই নাকি হয়রানি?

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক :   |   রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সাদুল্লাপুরে ভাঙচুরের মামলা : আইনি লড়াই নাকি হয়রানি?

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্য হাটবামুনী গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাঁদা দাবিতে বাড়িঘরে হামলা ভাঙ্চুরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ঘটনার নেপথ্য কারণ ও মামলার সত্যতা নিয়ে বাদী, বিবাদী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মধ্য হাটবামুনী গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফারাজ উদ্দিনের পুত্র আজগার আলীর সাথে হাটবামুনী মৌজার জেএল নং ৯, সি/এস খতিয়ান নং ২৯৩/৪০০, আর/এস খতিয়ান নং ৫৫৩, দাগ নং ১৭৪৩ এর ৮৯ শতাংশ জমি নিয়ে একই গ্রামের মৃত পরবাসুর পুত্র আনোয়ার হোসেনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধে মামলা চলে আসছে। এমতাবস্থায় গত ০৪-০৯-২০২৬ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টায় আনোয়ার হোসেন কয়েকজন সহযোগীসহ ভুক্তভোগী আজগার আলী ও তাঁর মেয়ে আদরী বেগমের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ওই নালিশী জমিতে থাকা আজগার আলীর মেয়ে আদরী বেগমের বসতবাড়িতে হামলা করে ভাঙ্চুরসহ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজগার আলী গত ১৯-০৯-২০২৬ ইং তারিখে আনোয়ার হোসেনসহ ১১জনকে বিবাদী করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা (নং ২৬/২৭৬) দায়ের করেন।

মামলার বাদী আজগার আলীর দাবি, তিনি ওই নালিশী জমি ভোগ দখলীয় পিতার কাছ থেকে ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। পাশাপাশি মেয়ে আদরী বেগমের বসবাসের জন্য জমির এক কোনে বসতবাড়ি স্থাপন করে বাকী অংশে চাষাবাদ করে আসছেন। এমতাবস্থায় সম্প্রতি ১৯৯০ সালের রেকর্ডে ওই জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলে তিনি রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেন। প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনসহ সহযোগীরা ওই নালিশী জমি মিথ্যা দাবি করে আদালতে একাধিক মামলা করে দখলে নিতে না পারায় ঘটনার তারিখে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙ্চুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তিনি জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জমি কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা বসতবাড়িতে এই হামলা করেছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ আনোয়ার হোসেনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, আজগার আলীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি জানান, “ওই নালিশী জমি ১শ’ বছর ধরে তাদের ভোগদখলে। প্রথমে আমার পিতা ভোগদখল করেন। পরে পিতার দেওয়া দলিলমুলে আমরা তিন ভাই বর্তমানে ভোগদখল করে আসছি। ওই জমি এক সময় খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও মামলায় রায় পেয়ে এখনো আমাদের ভোগদখলে। আজগার আলী মিথ্যা দাবি করে ওই জমিতে ঘর তুললে আমাদের ভোগদখলীয় সুত্রে ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়। চাঁদা দাবি লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা।
জমি বিরোধে আমাদের কাবু করতে না পেরে তারা এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে। এটি নিছক আমাদের হয়রানি করা এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি নোংরা কৌশল।”

এই মামলার ১ নম্বর বিবাদী শিক্ষক আলতাব হোসেন অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মামলার বাদী আজগার আলী এবং আমরা আপন চাচাতো জ্যাঠাতো ভাই। আমাদের পৈত্রিক সুত্রের জমি- জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে আমাকেসহ আমার স্ত্রী স্মৃতি বেগম, সহোদর ভাই আনিছার রহমান ও আতাউর রহমানকে এই মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। যাহা মানহানিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, ” আমি একজন শিক্ষক। সারাজীবন শিক্ষার্থীদের আলো দেখিয়ে আসছি। আমার পরিবার একটি শিক্ষিত পরিবার। আমি কিংবা আমার পরিবারের কেউ এই অপরাধমূলক কাজে জড়িত নই। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এলাকাবাসী। অথচ আজ আমাকেসহ আমার স্ত্রী ও দুই ভাইকে ‘চাঁদাবাজ’ তকমা দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙ্চুরের কাল্পনিক মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানান, যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই চরম হয়রানিমূলক মামলা থেকে আমাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

অপর দিকে, দু’দলের এই পরস্পর বিরোধী বক্তব্য টক অফ দ্যা ভিলেজ-এ পরিনত হবার পর থেকেই হাটবামুনী গ্রামসহ এর আশেপাশের গ্রামে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সর্বত্র একটাই আলোচনা এই জমির প্রকৃত মালিক কে? তাদের প্রশ্ন—আজগার আলীর দায়েরকৃত এই মামলা কি আসলেই ন্যায়বিচারের জন্য আইনি লড়াই, নাকি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম অস্ত্র?

এই মামলার অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ওই নালিশী জমি নিয়ে আজগার আলীর সাথে প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেনসহ সহোদর ভাই দুলা মিয়া ও জাহাঙ্গীরের বিরোধ। অথচ মামলায় পার্শবর্তী প্রতিবেশী মৃত জেলাল উদ্দিনের পুত্র আলতাব হোসেন, আনিছার রহমান, আতাউর রহমান ও আলতাব হোসেনের স্ত্রী স্মৃতি বেগমকে বিবাদী করার নেপথ্য রহস্য কি?

এলাকার প্রবীণ সমাজসেবক ও সুধীজনরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষক সমাজ আমাদের সমাজের দর্পণ। জমি নিয়ে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই আক্রোশ মেটাতে একজন নিরাপরাধ শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের চাঁদাবাজ সাজানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই একই সাথে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির দাবি করছি।”

কামারপাড়ার মধ্য হাটবামুনীর এই ঘটনাটি আসলেই কী কোনো চাঁদাবাজি? নাকি জমি-জমা নিয়ে প্রতিহিংসা? এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন তৎপর হলে সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে ঘটনার নেপথ্য রহস্য। মুক্তি পাবে নিরাপরাধ ব্যক্তিরা-এমনটাই মনে করছেন এই এলাকার সাধারণ জনগণ।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও

.

Advertise with us

ফলো করুন bangladoinik.com-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
ফখরুল ইসলাম
সহসম্পাদক
মো: মাজহারুল ইসলাম
Address

জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com