মোহাম্মাদ উল্লাহ সোহেল | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংবাদদের নেপথ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং সংবিধান মেনে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ—বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
শুক্রবার বিকেলে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তিনি পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন, যা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পরপরই দেশের সংবিধান প্রদত্ত বাধ্যবাধকতা ও ধারা অনুসরণ করে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা
একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। যেকোনো সংকটময় বা পরিবর্তনের মুহূর্তে যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়, তখন সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সেই শূন্যতা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্পিকারের রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব গ্রহণ সেই আইনি ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকেই পুনরুজ্জীবিত এবং সুসংহত করেছে। এর মাধ্যমে দেশে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা দূর হলো, যা স্বস্তিদায়ক।
দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সামনে এখন এক বিশাল দায়িত্ব। দেশের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবিধানের রক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বরাবরই নিরপেক্ষ এবং সর্বজনীন হওয়া বাঞ্ছনীয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
আমাদের প্রত্যাশা
আমরা বিশ্বাস করি, সংবিধানের বিধান অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেশকে একটি স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়া এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। কোনো রাষ্ট্রীয় সংকটে দেশের জনগণ যেন দিকভ্রান্ত না হয়, তার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুদৃঢ় অঙ্গীকার। দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নেতৃত্ব ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জে এস ফুজিয়ামা ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিষ্ঠান। ভ্রাতৃপ্রতিম নিউজ - newss24.com